এল.কে.ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায় অবস্থিত। এটি এই অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বিদ্যালয়ের তথ্য:
- প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী আবদুল মান্নাফ বিটি সাহেব
- প্রতিষ্ঠা সাল: ১৯৫০ সাল
- অবস্থান: পোঃ নরেন্দ্রপুর, উপজেলা- মনোহরদী, জেলা- নরসিংদী। এটি বীর আহম্মদপুর, খিদিরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- EIIN নম্বর: 112585
- প্রতিষ্ঠান প্রকার: মাধ্যমিক বিদ্যালয় (সহশিক্ষা)
- MPO স্থিতি: হ্যাঁ (MPO ভুক্ত)
যোগাযোগের তথ্য:
- প্রধান শিক্ষক: মোঃ আতিকুল্লাহ
- ফোন নম্বর (প্রধান শিক্ষক): 01714974838 (শিক্ষক বাতায়ন অনুযায়ী)
- অফিসিয়াল মোবাইল (অন্যান্য তথ্যসূত্র অনুযায়ী): 01309112585
- ইমেইল: lkschool1950@gmail.com
- ওয়েবসাইট: https://www.nanghs.edu.bd/
- ফেসবুক পেজ: এল.কে.ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক পেজ আছে, যা তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী আবদুল মান্নাফ বিটি সাহেব
মরহুম কাজী আবদুল মান্নাফ বিটি সাহেব , সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সুদীর্ঘ ৩৫ বছর খিদিরপুর ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করা এই প্রবাদ পুরুষ, মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের বীর আহম্মদপুর গ্রামে সুনামধন্য কাজী পরিবারের মরহুম কাজী ছাহিউদ্দিন সাহেবের পুত্র সন্তান হিসাবে, ১৯১১ সালে জন্ম গ্রহন করেন। ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী এই ছাত্র, খিদিরপুর জর্জমেরি একাডেমি থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করেন ও পরবর্তীতে শিবপুর উপজেলার লাখপুর শিমুলীয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে এন্ট্রান্স বা মেট্রিকুলেশন কৃতীত্বের সাথে পাশ করেন। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় শিক্ষানুরাগী পিতা ছেলেকে পাঠান ভারতে উচ্চ শিক্ষার জন্য। ১৯৩১ সালে সেন্ট জেবাসি কলেজ থেকে এফ এ ও ১৯৩৩ সালে বি এ ডিগ্রী অর্জন করেন। এ মেধাবী শিক্ষার্থী ১৯৩৫ সালে কলিকাতা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিটি ডিগ্রী অর্জন করেন।
মনোহরদীর এই নন্দিত কৃতীসন্তান কাজী সাহেব, কর্মজীবনের প্রথম থেকেই শিক্ষকতাকে পেশা হিসাবে গ্রহন করেন। কর্মজীবনের প্রথমে উনি পাকুন্দিয়ার কোদাল্লা হাইস্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। তারপর চালাকচর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ভার গ্রহন করে ১৯৪৮ পর্যন্ত এই স্কুলের সাথেই জড়িয়ে ছিলেন। জনাব মান্নাফ সাহেব, চালাকচর স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সময়েই নিজ ইউনিয়ন, খিদিরপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালে খিদিরপুর ও লেবুতলার শিক্ষাবান্ধব ও সুধীজনরা মিলে, জনাব কাজী মান্নাফ সাহেবের নিজ হাতে গড়ে তুলেন এল কে ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও উনি ছিলেন এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার বাতিঘর বলে সুপরিচিত জনাব কাজী সাহেব সুদীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে এল কে স্কুল থেকে অবসরে চলে আসেন।
খিদিরপুরের সন্তান বর্নাঢ্য জীবনের অধিকারী জনাব বিটি সাহেব, অবসর জীবনে এসেও জাতিকে শিক্ষিত করার প্রত্যয়ে, খিদিরপুরের বীরমুক্তিযোদ্ধ্যা তারা মাষ্টারে হাতে প্রতিষ্ঠিত খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে খিদিরপুর কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর কলেজে ইংরেজি শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। উনি ব্যাক্তি জীবনে বহু স্কুল,মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মানে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছিলেন।
মনোহরদীর ইতিহাসে একজন সেরা সমাজ সেবক হিসাবে জনাব বিটি সাহেব ছিলেন সবার উপরে, ১৯৪২ সালে উনি প্রথম খিদিরপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। একজন আদর্শ মানুষ, যাকে ইউনিয়নের সবাই শ্রদ্ধ্যার সাথে ভালোবাসতো ও সন্মান করতো এ মানুষটি খিদিরপুর ইউনিয়নের একাধারে ১৯৪২ সাল থেকে ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট, ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, যুদ্ধকালীন সময়ে ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে করা হয় ইউনিয়ন ত্রান কমিট উনি ছিলেন ত্রান কমিটির চেয়ারম্যান ও সবশেষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সফল ভাবে ও সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে ১৯৭৭ সালে ইউনিয়নের দায়িত্বভার ছেড়ে দেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৭৭ সালের শেষের দিকে জনাব বিটি সাহেব মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে আহত হন, তারপর বিটি সাহেব স্বেচ্ছায় চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষনা দেন।
খিদিরপুরের সাবকে চেয়ারম্যান জনাব বিটি সাহেব ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরান, সততার মুর্ত প্রতীক ও পরহেজগার একজন সুপুরুষ । উনি যখন খিদিরপুরের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে তখন মনোহরদী থানা ডেভেলপমেন্ট পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে তিন বছর সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সুদীর্ঘ কর্মজীবন ও সমাজসেবক জনাব বিটি সাহেব ১৯৯৭ সালের ১৯ শে ডিসেম্বর ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেছিলেন। আল্লাহ এই গুনীমানুষটিকে, জান্নাতুল ফেরদৌসের উঁচু মাকাম দান করুন। উনার বর্নাঢ্য জীবনকাহিনী লিখে শেষ করার মত না, নতুন প্রজন্মের জন্য ও উনাকে শ্রদ্ধ্যার সাথে স্বরন করে উনার জীবনের সামান্য কিছু কথা তুলে ধরলাম। আমাদের সমাজে কত মানুষ আসবে আর কতমানুষ অজানার গন্তব্য হারিয়ে যাবে কিন্তু একজন কাজী মান্নাফ বিটি সাহেবের মত মানুষ খুজে পাওয়া খুবই কঠিন। উনি শুধু ইতিহাস সৃষ্টি করেননি উনি নিজেই একটা ইতিহাস মনোহরদীবাসীর জন্য।
ইতিহাস ও লক্ষ্য:
এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়া এই এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও কার্যকরী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা, যাতে তারা শহরের অভিজাত এলাকার শিক্ষার্থীদের মতো প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। শিক্ষার উন্নত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের মেধার সঠিক বিকাশ ঘটাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই দূরদর্শী পরিকল্পনায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এটি নরসিংদী জেলার একটি পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
